কেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী আধুনিক ভারতের আদর্শ হওয়ার যোগ্য নন

ইনকিলাব ডেস্কঃ ১৯৫১ সালে হিন্দু মহাসভা ত্যাগ করে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী আরএসএসের সহায়তায় ভারতীয় জন সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন; পরে তা ভারতীয় জনতা পার্টি নামে পরিচিত হয়।
.
কেবলমাত্র তার দৃষ্টিভঙ্গি যে সাম্প্রদায়িক ছিল তা নয় , তিনি ছিলেন বর্ণবাদী, উপনিবেশবাদী ব্রিটিশ  তোষণকারী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের (ভারত ছাড়) বিরোধী।
.
২০১৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে, নেহেরুর সাথে তুলনা করার প্রয়াস দলের তরফে লক্ষণীয়। এখন দেখে নেওয়া যাক আধুনিক ভারতের আদর্শ হওয়ার মত যোগ্যতা তাঁর আছে কিনা…
.
১) মুখার্জী দ্বিজাতি তত্ত্বে বিশ্বাসী ছিলেন এবং বাংলা ভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন
.
এসপি মুখার্জী ছিলেন একজন হিন্দু সাম্প্রদায়িক নেতা। ১৯৪৭ এর আগে হিন্দু মহাসভার নেতা থেকে প্রেসিডেণ্ট পদে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।
.
১৯৩২ এর পর বাংলার রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। “কমিউনাল আওয়ার্ড” নামে এক পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্রিটিশ সরকার লেজিসলেটিভ সিট বিভাজন করে যেখানে মুসলমান – দলিতদের অনেক বেশি আসন দেওয়ার কথা বলা হয়। মুসলমান অধ্যুসিত প্রোভিন্স হওয়া সত্ত্বেও এতদিন কাউন্সিলে উচ্চবর্ণের প্রাধান্য ছিল।
.
অন্যদিকে একই সময়ে সুদূর নাগপুরে মোহনদাস গান্ধী, বিআর আম্বেদকরের সাথে এক বোঝাপড়ায় এসেছিলেন যাতে হিন্দু আসনগুলির একটা বড় অংশ দলিতদের দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এতে তথাকথিত বাঙালী ভদ্রলোকেরা হঠাত্ ক্ষমতা হারিয়ে মুখার্জী, সাভারকারদের সাথে সাম্প্রদায়িক লাইনে চলতে শুরু করেন।
.
মুখার্জী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের অভিযোগ তুলে সাম্প্রদায়িক অভিযান শুরু করেন। যদিও মহাসভা ব্যাপক জনসমর্থন পায়নি, কিন্তু জমিদার এবং কোলকাতার মাড়ওয়াড়ি ব্যবসায়ীদের একটা অংশ সমর্থন করায় বাংলার কংগ্রেস সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।
.
মুখার্জী ছিলেন বাংলা ভাগের কারিগরদের অন্যতম। ১৯০৫ এ এই বাংলার নেতারাই বাংলা ভাগের বিরোধিতায় পথে নেমেছিলেন। কিন্তু ১৯৪৬-৪৭ এ বর্ধিত সাম্প্রদায়িকতা এবং বাংলায় বর্ণহিন্দুদের রাজনৈতিক ক্ষমতা হারানোর ভয়ে মুখার্জীর নেতৃত্বে বাঙালী ভদ্রলোকেরাও বাংলা ভাগের দাবি করতে থাকেন। এমনকি ১৯৪৭ সালের ২ ই মে ভাইসরয় মাউন্ট ব্যাটেনকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেন ভারত ভাগ না হলেও বাংলাকে যেন ভাগ করা হয়।
.
মুখার্জী শীঘ্রই তাঁর ভুল বুঝতে পারেন এবং ১৯৫১ সালে দুই বাংলা এক করার প্রস্তাব দেন. কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ১৯৫২ এর নির্বাচনে হিন্দু মহাসভার ভরাডুবি হয়। বিধানসভায় ৪% এরও কম আসন পায়। পরবর্তীকালে পূর্ববঙ্গ থেকে আসা হিন্দু শরনার্থীরা বাম রাজনীতির চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে এবং বাংলায় হিন্দুত্ব রাজনীতি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়।
.
২. এসপি মুখার্জী ছিলেন ধর্মীয় সংকীর্ণমনা
.
প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ স্যার আশুতোষ মুখার্জীর পুত্র এবং নিজে বহু ডিগ্রীধারী হয়েও এসপি মুখার্জী ধর্মীয় দিক থেকে ছিলেন অতি দক্ষিণপন্থী। ১৯৪৩-৪৪ এ বাংলার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছিল তখন মুখার্জীর নেতৃত্বাধীন হিন্দু মহাসভা সরকারি ক্যান্টিনে মুসলমান-দলিত রাঁধুনি রাখার বিরোধিতা করে আন্দোলনে নেমেছিল। এছাড়া মহাসভার বিরুদ্ধে দুর্ভিক্ষ ত্রাণ বিতড়নে সাম্প্রদায়িক মনোভাব, ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।
.
৩. স্বাধীনতা আন্দোলনের তীব্রতার সময়েও তিনি নির্লজ্জের মত ব্রিটিশ সরকারের তাঁবেদারি করেছিলেন
.
১৯৪২ এ ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় মুখার্জী ছিলেন বাংলার অর্থমন্ত্রী তথা ফজলুল হক সরকারের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। মুখার্জীর দল হিন্দু মহাসভা ঔপনিবেশিক সরকারকে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নেয়; কারণ তাদের মতে আসল লড়াইটা ছিল মুসলমানদের বিরুদ্ধে। এমনকি মহাসভা নেতা সাভারকার হিন্দু যুবকদের ব্রিটিশ বাহিনীতে যোগদান করার আহ্বান জানান।
.
পার্টি লাইন মেনে মুখার্জী ১৯৪২ এর ২৬ শে জুলাই কংগ্রেসের ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে প্রতিহত করার চক্রান্ত করে বাংলার ব্রিটিশ গভর্নর জন হার্বার্টকে চিঠি লেখেন “যুদ্ধের সময় যদি কেউ আম জনতাকে আন্দোলনে নামতে উসকানি দেন, আভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সৃষ্টি করেন তবে সেখানের কার্যকরী সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে”। মুখার্জী প্রতিশ্রুতি দেন “বাংলার একজন মন্ত্রী হিসেবে আমি, আমার প্রভিন্স এবং দেশের তরফ থেকে এই ক্রাইসিসের সময়ে আপনাদেরকে সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করার কথা ঘোষণা করছি”।
.
যেসময় বাংলা তথা দেশজুড়ে ব্রিটিশ বিরোধিতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল, সেসময় মুখার্জীর এই চিঠি নির্লজ্জ চাটুকারিতার নিকৃষ্ট উদাহরণ। স্পষ্টতই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর সাম্প্রদায়িক মনোভাব, জাতপাত বিদ্বেষ, ব্রিটিশ আনুগত্য কখনই আধুনিক ভারতের জন্য অনুসরণযোগ্য নয়।
মূললেখা : Scroll ॰ in (Shoaib Daniyal )
Please follow and like us:

10 thoughts on “কেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী আধুনিক ভারতের আদর্শ হওয়ার যোগ্য নন

  1. আমি তাঁর নীতিকে অনুসরণ করি না। আমি কখনই মনে করি না তিনি নেহরু-র মতন নেতা ছিলেন। তবে একটা কথা । উনি ব্যক্তিগতভাবে কিন্তু হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে গুণী মানুষদের শ্রদ্ধা করতেন। কবি কাজী নজরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় উদ্যোগী হয়ে কবির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। ইতিহাসের ব্যক্তির মূল্যায়ন সবসময় ব্যক্তি নিরপেক্ষ হওয়া উচিত ।
    সমীরভট্টাচার্য

  2. this write-up is an exercise in economy of truth and systematic half truths.
    we cannot ignore the role of the Muslim League and Mhd,\. Ali Jinnah Direct Action Plan called on 16th August`1946.
    any `COMMUNAL` role of Shyama Prasad is to be judged in the light of the above mentioned fact.
    that Calcutta remained within INDIA was because of his role in protesting against the evil plans of the Muslim League..

  3. বাহ নতুন ইতিহাস পড়লাম.. আপনার লেখায় রেফারেন্স গুলো দিলে ভালো হয়.. সসোর্স গুলো কি কি.. না হলে মনগড়া গল্প মনে হবে…

  4. “মুখার্জী শীঘ্রই তাঁর ভুল বুঝতে পারেন এবং ১৯৫১ সালে দুই বাংলা এক করার প্রস্তাব দেন. কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল” …. এই তথ্যটি আমার জানা নেই। এটার কোন detailed reference দেবেন?

  5. Do you have the references of the letters those are stated…?? Kindly show it for the readers confirmation w.r.t truth…

  6. There is no historical referance against Dr Mukherjee.If you have any logical and genuine referance,please name the book or writer. Please do not write such communal false personal irritation.

  7. Dr . Shyamaprasad Mukherjee saved the Bengal Hindu community from extinction. If someone refers him as communal for saving an entire community from genocide then I would like to be communal.

  8. ভারত কি আধুনিক হতে পেরেছে সব থেকে যোগ্য নেতা জহরলাল নেহেরুর হাত ধরে? এখনও মানুষ খোলা মাঠে প্রাতকৃত সারে। স্বাধীনতার 70 বছর পরে সচ্ছ ভারত অভিযান করতে হচ্ছে কেন। কবে শুনব নেতাজী সুভাষ বোস যোগ্য নেতা ছিলেন না। ওনাকে কমুনিষ্টরা তেজোর কুকুর বলেছিল। কমুনিষ্ট দলগুলির মাথায় কারা ছিলেন দলিতরা? জ্যোতি বসু, ডাঙ্গেরা কি দলিত। নেহেরুর দেশভক্তি অসীম। তাহলে মাউন্টবাটেন ও তার স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এত ঘনিষ্ঠতা ছিল কেন? তখনকার কংগ্রেস নেতারা দ্বিজাতি তত্ব মেনে নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। তাহলে তারা সাম্প্রদায়িক হল না কেন? যে পশ্চিমবঙ্গ শামাপ্রসাদ মুখার্জীর দান , সেই মাটি ছিল বলে 34 বছর বামেরা শাসন করার সুযোগ পেল। বাঙালী হিন্দু সমাজ কাঞ্চন ফেলে কাঁচ নিয়ে সুখে থাকতে চেয়েছে। ওরা বিহার উড়িষ্যার শাসনের সুযোগ পেল না কেন? শামাপ্রসাদ হিন্দুদের জন্য রুখে না দাঁড়ালে তামাম বাংলা পাকিস্তানে থাকত। শ্যামাপ্রসাদবাবু কটা দাঙ্গা লাগিয়েছেন। দাঙ্গা সৃষ্টিকারী সুরাবর্দী অসাম্প্রদায়িক— কি বলেন সবাই। কম্যুনিষ্টরা কালিদাস। যে ডালে বসে সেই ডাল কাটে। শামাপ্রসাদ বাবু নিরীহ হিন্দুদের রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। দ্বিজাতীয় তত্ব মেনে দেশ যখন স্বাধীন হল তখন অসাম্প্রদায়িক নেতা সমূহ ও কংগ্রেসীরা মুসলমানদের পাকিস্তানে পাঠালো না কেন? পাকিস্তান তো হিন্দু শূন্য করে দিল। ভারতে পরিবার পরিকল্পনা কি শুধু অমুসলমানদের জন্য। আবার দেশ ভাগ হবার পথে চলেছে শুধু একটি ধর্ম ভীরু জাতিকে তোষন করার ফলে। আমি আত্মরক্ষা করতে চাইলে আমি সাম্প্রদায়িক? যে আমাকে মারবে সে ধর্মনিরপেক্ষ? সত্য সেলুকাস কি বিচিত্র এই হিন্দু জাতি।

  9. কিছু মনগড়া কাহিনী লিখে দিলেই হয় না।ইতিহাস আমরাও জানি।আপনার লেখার রেফারেন্স দিন।অবশ্য দেবেন কোথা থেকে।তথ্য সত্যি হলে ত রেফারেন্স দেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *