সৌদি ইতিহাসের কিছু অধ্যায়

মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহাবের(১৭০৩-১৭৯২) জন্ম হয়েছিল অষ্টাদশ শতকের শুরুর দিকে আরবে। ততকালীন আরবের বড় অংশ ছিল ওটোমান প্রভাবিত বা অধিকৃত। মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহবের পিতা ছিলেন মূলত সরকারী কর্মচারী। ওয়াহাবের বাস ছিল শিয়া রাজবংশ সাফাভি শাসিত পারস্য সাম্রাজ্যের লাগোয়া পূর্ব আরবে। এখানকার এবং পার্শ্ববর্তী ইরাকের অনেক জায়গায় ছিল শিয়া সংস্কারের কেন্দ্র, অনেক শহর যেমন কারবালা, কুফা, নাজাফ বিভিন্নজনের মাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার পাশাপাশি তদানীন্তন তুরস্কে সুফীবাদের বিভিন্ন রূপ প্রকট হয়ে ওঠে। আধ্যাত্মবাদ ছাড়াও জাগতিক লাভের জন্য এমন কিছু আচার চালু হয় যা ইসলামের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে ইরাক, সিরীয়া এমনকি মক্কার চারপাশে ধর্ম ঘিরে আড়ম্বরপূর্ণ ব্যবসা তখন রমরমিয়ে চলত।
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহাব মূলত ছিলেন সমাজ সংস্কারক ও লেখক, ধর্মগুরু নন। তিনি কোন নতুন ধর্মীয় মতবাদ দিয়ে যান নি, তবুও ওয়াহাবী মতবাদ নামে যে ধারণা প্রচলিত আছে তা মূলত তাঁর কিছু অনুসারীর জন্য, সৌদ পরিবারের জন্য এবং বিরোধীদের জন্য। তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে কিতাবুত তওহীদে তাঁর মূল দর্শন প্রকাশ পেয়েছে। এই দর্শনের মূল ভিত্তি ইসলামী একেশ্বরবাদ, যা আগের যুগের দার্শনিক যেমন গজ্জালি বা খৈয়্যামের থেকে আলাদা। তাঁর শিরকবিরোধী কর্মকাণ্ড অনেকের ইন্দ্রিয়সর্বস্বতা এবং বিশ্বাসব্যবসায় ব্যঘাত ঘটানোয় তাঁর জীবন বিপন্ন হয়। এবং শেষে সামন্ত নেতা মুহাম্মাদ ইবনে সৌদের আশ্রয় নেন।
এই মুহাম্মাদ ইবনে সৌদের বংশধর আব্দুল আজীজ সৌদী আরব প্রতিষ্ঠা করেন। সৌদ পরিবারের সাথে দিরীয়া চুক্তি হয়, যার প্রভাব ছিল সুদুরপ্রসারী। এর ফলে ওয়াহাবী অনুসারীদের মধ্যে বংশপরম্পরা গড়ে ওঠে। ওয়াহাবীদের মধ্যে ইবন তায়মিয়ার এবং আহমাদ বিন হানবলের মতবাদের প্রভাব পড়ে।
ইবন তাইমিয়ার ‘সালাফি’ মতবাদ ছিল ইসলামী সমাজব্যবস্থা সলফ অর্থাৎ প্রথম তিন প্রজন্ম, নবী(সঃ) ও তাঁর সহচর বা সাহাবা, সাহাবাদের অনুচর তাবেয় এবং তাঁদের অনুচর তাবেয়ী-তাবেয়ীনদের আদলে তৈরি হবে।
ততকালীন আরবের পরিবেশ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং ওটোমানসহ বিভিন্ন আগ্রাসনে অস্থির ছিল। তার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের ইসলামী আন্দোলনকারীদের মধ্যে মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়হাবের বক্তব্য প্রভাব ফেলে। সৌদ বংশ প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে তৌহিদকে ঢাল করে অন্যদিকে ওটোমান খলিফ তাঁর খিলাফতের প্রভাব কাজে লাগাতে চান, শিয়া নেত্রাও পিছিয়ে থাকেন না।
সেই থেকে মূলত ওয়াহাবী এবং অন্যান্য মুসলিম গোষ্ঠীর চরম বিরোধ শুরু হয়। শুরু হয় রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে জিহাদকে সামনে রাখা।
সৌদি পরিবারের সাথে চুক্তি এবং এই পরিবারের রাজনৈতিক উচ্চাকাংখা কথিত ওয়াহাবী মতবাদে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য এনেছে। রাজতন্ত্রকে সমর্থন দেওয়া তো আছেই, সাথে সাথে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পর গ্র্যাণ্ড মুফতি পদেও বংশপরম্পরা শুরু হয়। মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহাব মসজিদে জাঁকজমকের বিরোধী ছিলেন। এই ধারণাকে সামনে রেখে বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থান ধ্বংস করা হয়েছে, যা নবীজির(সঃ) সাথে জড়িত।
সুফীবাদ এবং ওয়াহাবীবাদের প্রসঙ্গে আরেকটি কথা, মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহাব সুফিবাদের বিভিন্ন আচারের কঠোর সমালোচনা করলেও ‘তাসউফ’ বা আত্মশুদ্ধির প্রশংসা করেছেন।
দিরীয়ার সামন্ত নেতা মুহাম্মাদ ইবন সৌদের দিরীয়া শহরটি আরব উপদ্বীপের পূর্বদিকে মরুপ্রধান নেজদ অঞ্চলে ছিল। সৌদ বংশের পুর্বপুরুষ ম্রুদা গোত্রের মানি ইবন রাবিয়া তাঁর আত্মীয় ও আশ্রয়দাতা ইবন দিরের নামে দিরিয়া শহরের নাম রাখেন। সৌদশত্রুদের অনেকে ম্রুদা গোত্রকে ইহুদি বংশোদ্ভূত বলে দাবী করেছেন। ইবন সৌদ প্রতিশ্রুতি দেন সমগ্র নেজদ যদি ইবন আব্দুল ওয়াহাবকে তাড়াতে বলে তবুও সৌদ বংশ তাঁকে আশ্রয় দিয়ে যাবে।
অন্যদিকে ইবন আব্দুল ওয়াহাব তাঁকে জ্ঞানী ব্যক্তি বলে স্বীকার করে জিহাদের পরামর্শ দেন। এর ফলে ইবন সৌদ মুসলিম বিশ্বের ইমাম(নেতা) হবেন এবং ইবন আব্দুল ওয়াহাব ধর্মীয় বিভাগের প্রধান হবেন বলে আশ্বাস দেন। রচিত হয় দিরীয়া চুক্তি।
এখানে উল্লেখ্য, সেই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য অমুসলিম গোষ্ঠী ছিলনা, তাই জিহাদের নাম করে বিভিন্ন সামন্ত নেতাদের লড়াইকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ইবন আব্দুল ওয়াহাবের ধর্মান্দোলন উচ্চাকাংখার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ক্রুসেডের সময় মধ্যরাচ্যের খ্রীষ্টানদের ভয়াবহ লাঞ্ছনা করেছিল ইউরোপীয়রা, মারাঠীরা হিন্দু পাদপাদশাহীর নাম নিয়ে হিন্দুদের ওপরও বর্গীহানা দিয়েছে। সুলতান মাহমুদ সোমনাথ আক্রমণের সময় মুসলিম শাসিত সিন্ধুদেশকেও রেহাই দেন নি। এইরকম করে সৌদ বংশ ১৮০২ সালে কারবালায় প্রলয়ঙ্করী হামলা করে। এই হামলায় ওটোমান সাম্রাজ্য এবং ওটোমানদের থেকে স্বাধীনতাকামী মিশরকে সচকিত করে দেয়। নেপোলিয়নের দিগবিজয়ের মাঝেও তুরস্ক-মিশর জোট আক্রমন করে সৌদ বংশকে। ১৮১৮ সালের মধ্যে সৌদ বংশের বেশিরভাগ এলাকা হাতছাড়া হয়। সৌদ এবং ওয়াহাবী বংশের বেশিরভাগ অংশ হয় নিহত বা নির্বাসিত হয়।
১৮২৪ এ সৌদ বংশের তুর্কি বিন আব্দুল্লাহ রিয়াধের কিছু অংশ দখল করতে সমর্থ হোন। এরপর বেশ কিছু বছর সৌদ বংশ মিশর, ওটোমান , কিছু আরব গোত্র, এমনকি নিজেদের গোত্রদ্বন্দ্বে লড়তে থাকে। শেষে ১৮৯১ সালে নিজেদের পুরনো অধীন হাইলের ইবন রশিদ গোষ্ঠীর হাতে পরাজিত এবং নির্বাসিত হয়। ওয়াহাবী বংশের আব্দ আর-রাহমান এবং তাঁর পুত্র আব্দ আল-লতিফ এই সময় সৌদি রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেন।
উনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে রুশ বিপ্লব, কামাল পাশার আন্দোলন প্রভৃতির জন্য মধ্যপ্রাচ্যে ধর্মনিরপেক্ষ প্রভাব বিস্তার হয়।
তার পাশাপাশি ইখোয়ান ও অন্যান্য দলের নেতৃত্বে কিছু ধর্মান্দোলন চলতে থাকে। তুরস্কের কামালের ও আফগানিস্থানের আমানুল্লার কিছু সংস্কার যেমন হিজব বিলোপ, আজান পরিবর্তন ইত্যাদি সাধারণ মানুষকে বিরূপ করে তোলে। সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতায় এবং এই জাতীয় সংস্কারের বিপক্ষে কিছু ধর্মভিত্তিক আন্দলন গড়ে ওঠে।
মধ্যপ্রাচ্যের ধর্মনিরপেক্ষ দেশগুলিতে এই আন্দোলনের বিপক্ষে দমন-পীড়ন চলে। ১৯৬৫তে সৌদি রাজ সৌদকে সরিয়ে তাঁর ভাই ফয়সল ক্ষমতায় আসেন। মিশরের আভন্তরীণ রাজনীতির ডামাডোলে গামাল আব্দেল নাসেরের সাথে দ্বন্দ্বে ১৯৬৬তে ইখওয়ান (Muslim Brotherhood) নেতা সাইয়িদ কুতুবের ফাঁসি হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে নাসেরের দ্রুত উত্থান বিভিন্ন চুক্তি সত্ত্বেও অন্য আরব দেশগুলির সাথে কঠিন রেষারেষি নিয়ে আসে। সৌদিরাজ ফয়সল এবং জর্ডনরাজ হুসেন নাসেরের প্রভাবে প্রজাতন্ত্রী চেতনার বিস্তারের ছায়ায় স্বস্তিতে ছিলেন না, তাঁরা রাজতন্ত্র-বিরোধী গণক্ষোভের ভয়ে ছিলেন। এইসব কারণে আরবনেতৃবৃন্দ ইজরায়েলের বিরুদ্ধে নির্ণায়ক যুদ্ধ চাইছিলেন, যদি আরবরা জেতে তাহলে ফল সারা আরব ভাগ করে নেবে, আর হারলে ইজরায়েল-বিরোধী নেতৃত্ব নিয়ে থাকা মিশরকে ভুগতে হবে; তাতে করে নাসেরের প্রভাব কমবে।
সিরীয়ার সাথে মিশরের জোট ১৯৬১তে ভেঙ্গে যায়। নাসের আরব বিভেদের কারণকে বিশ্লেষণ করার বদ তাঁর প্রজাতন্ত্রী সনদকে বিধিবদ্ধ করে সমাজবাদী ধারণা আরব জনতার ওপর চাপাতে চাইলেন। আরবের রাজতন্ত্রগুলি তাতে প্রমাদ গোণে। ১৯৬৫র জানুয়ারীতে কায়রো সম্মেলনে আরবদের আভন্তরীণ রাজনৈতিক ঝামেলা, অপ্রকাশ্য ভেদাভেদ ও অর্থনৈতিক চাপ সুস্পষ্ট হয়ে যায়।
সৌদি নেতৃত্ব নাসেরের প্রভাব কমাতে মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন দিতে থাকে, এমনকি ইজরায়েল ও মুসলিম ব্রাদারহুডের প্যালেস্তীনিয় শাখাকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিশেষ ঘাঁটায় নি।
এইসময় শিয়াসুনি দ্বন্দ্ব অনেক কম ছিল। সেজন্য জিন্না বা ভুট্টোর মত পাকিস্তানি শিয়া নেতারা মধ্যপ্রাচ্যে বেশ খাতির পেতেন। ইরানের রাজবংশও সৌদি বা অন্যান্য সুন্নি দেশগুলিতে বেশ গুরুত্ব পেত।
১৯৬৭র ৬ দিনের যুদ্ধে হার মধ্যপ্রাচ্যে নাসেরের প্রভাবের সাথে সাথে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণাও বড় ধাক্কা খায়। বিভিন্ন দেশে ধর্মভিত্তিক আন্দোলন জোরদার হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় Organisation of Islamic Countries।
এই পরিস্থিতিতে প্যালেস্টীনীয় উদবাস্তু সমস্যা সামলাতে না পারায় জর্ডনে Black September নামের গৃহযুদ্ধ বেধে যায়। এই গৃহযুদ্ধে সৌদি রাজপরিবারের সাথে ভাবী পাকিস্তানী সেনাপ্রধান জিয়াউল হক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসাবে জর্ডনরাজের তরফে প্যালেস্টীনিয় বিদ্রোহী দমনে অংশ নেন। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ও তেল অবরোধ সৌদিরাজ ফয়সলের প্রভাব অনেক বাড়িয়ে দেয়। তিনি নিহত হলেও তাঁর প্রবণতা চলতে থাকে। ইরান, সৌদি, ইজরায়েল এর একজোট হয়ে SAFARI CLUB নামে চক্রগঠন এবং সোমালিয়া কঙ্গোর মত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কমিউনিজমবিরোধী লড়াইয়ে পশ্চিমী কূটনীতির চূড়ান্ত সাফল্য ছিল।
১৯৭৯এর ইরানে ইসলামি বিপ্লব ও মক্কা শরীফে হজের সময়কার অবরোধ সৌদি রাজনীতিতে শিয়াবিরোধী ধারা ফিরিয়ে আনে। এরপর আফগানিস্তানে সোভিয়েত আক্রমণ শুরু হলে সৌদি রাজনীতি আরো বেশি করে ধর্মীয় সমর্থনে অন্বেষী হয়।
গণতন্ত্র, সাম্যবাদ ইত্যাদি মনুষ্যসৃষ্ট বলে পরিত্যাজ্য ঘোষিত হয়( যেন রাজতন্ত্র দৈবসৃষ্ট!)। সৌদিরাজ ফাহাদ ১৯৮৬ সালে নিজেকে রাজকীয় উপাধী his Majesty র বদলে “দুই পবিত্র মসজিদের জিম্মাদার” বলে ঘোষণা করেন।
শুধু ওয়াহাবী পরিবার নয় তার বাইরেও বিভিন্ন সালাফিপন্থী আলেমদের গুরুত্ব বাড়ে। এইসময় থেকেই ওয়াহাবী বংশীয় আব্দুল্লাহ বিন বাজের সাথে সাথে শাইখ উসায়মিন এবং নাসিরুদ্দীন আল্বানী গুরুত্ব পেতে থাকেন।এই উলেমারা ইমাম ইবনে মাজা ও তিরমিজি সঙ্কলিত হাদীস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মিশকাত ও সগিরের বিভিন্ন হাদীসের অসারতা প্রমাণে সচেস্ট হোন।
১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও সৌদি রাজপরিবার ধর্মীয় বৈধতা প্রচারে ব্যগ্র হয়। পরবর্তীকালে জাকির নায়েক, দিলওয়ার হোসেন সাইদিসহ বিভিন্ন উপমহাদেশীয় আলেমদেরও কদর হতে থাকে। সৌদি রাজপরিবারের উদ্যোগেই পীরতন্ত্র, বেদায়েত ইত্যাদির পাশাপাশি নামাজের পরবর্তী দোয়ার বিরোধিতা করেও প্রচার হচ্ছে।
উথাইমিন-আলবানি-আব্দুল্লাহর মৃত্যুকে হাদীসবর্ণিত “উলামাদের প্রয়াণ” বলেও প্রচার হচ্ছে। সিরীয়ার গৃহযুদ্ধকে যখন মার্কিন পক্ষ গণতন্ত্রের যুদ্ধ বলে প্রচার করছিল, তখন সালাফি পক্ষ একে শিয়াসুন্নি লড়াই বলে প্রচার করে।( শিয়া জুলফিকার ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খান যখন বাঙ্গালীদের কতল-এ-আম করছিল তখন এরকম কিছু বলেনি।) ইয়েমেন আক্রমণেও এরকম প্রচার চলছে।
হালে মক্কার কাবা শরীফে ইসলামের ইতিহাসের স্মৃতিবিজরিত দারুল আহকামসহ বিভিন্ন সৌধ ধ্বংশের পাশাপাশি বিরাট অট্টালকা নির্মাণ বিতর্ক তৈরি করেছে। জাবাল হাবসী পাহাড়ের সৌদি প্রাসাদটিও বিতর্কের উর্দ্ধে নয়।
বর্তমানে কিছু রক্ষণশীলতা কেটেছে, তবুও সৌদি পরিবারের আগ্রাসী নীতি এবং তাকে ধর্মীয় রূপ দেওয়ার চেষ্টা অব্যহত।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *