নবছরের জেল খাটার অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লিখছেন মুম্বাই বিস্ফোরণে মিথ্যা অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াহিদ

ইনকিলাব ডেস্ক ঃ

২০০৬ সালে প্রায় ৮০ দিন ধরে  বারবার আটক করা ও অত্যাচার চালানোকে স্কুল শিক্ষক আব্দুল ওয়াহিদ শেখ ভেবেছিলেন যে সেটা ঐ বছর জুলাইয়ে মুম্বাইয়ে হওয়া ধারাবাহিক বিস্ফোরনের ‘রুটিন’ তদন্ত। সত্যিটা বুঝতে পারেন ২৯শে সেপ্টেম্বার, যখন আরো ১২ জনের সাথে তাকেও ওই বিস্ফোরনকান্ডে গ্রেপ্তার করা হয়।

আব্দুলের বয়স এখন  ৩৮ বছর। ১১ বছর জেল খাটার পর  কোর্ট তাকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছেন। তিনি তার ৯ বছরের জেল অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা বই লিখেছেন। ‘বেগুনাহ কয়েদি’ (নির্দোষ বন্দী)। সেখানে  শেখ বর্ণনা দিয়েছেন তার উপর করা অত্যাচার, তার একাকিত্ব ও  সিস্টেমের অপব্যবহার করে কিভাবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তার মত যুবকদের মিথ্যা সন্ত্রাসী  বানিয়ে দ্রুত  সাফল্য লাভ করতে চাই – এসব কথা। তিনি লিখেছেন   ব্যাঙ্গালোরে   করা বিকৃত নার্কো আনালিসিসের কথা, সেইসমস্ত  মেডিক্যাল পরীক্ষার কথা যেগুলি আদৌ হয়নি ।ষড়যন্ত্র, মিথ্যা প্রমান,ও ভয় দেখিয়ে সাক্ষী বানানো সবই আছে তার  বইতে।  এগুলো  সন্ত্রাস-বিরোধী কার্যাবলীর উপর কিছু গুরুতর  প্রশ্ন উঠিয়ে দেয়।

.১৩ জনের মধ্যে কেবল শেখই   বেকসুর খালাস পান। তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অন্যদেরও সুবিচার পাওয়া নিশ্চিত করতে। তিনি নিশ্চিত তারা নির্দোষ। ” তারা আমাদের উপর বৈধ ও অবৈধ দুভাবেই নার্কো অ্যানালিসিস করতো। অবৈধভাবে, তারা জেলের ডাক্তার মে আমাদের রুমে আনতো, কিছু বস্তু শরীরে ইঞ্জেক্ট করে দিত, তারপর প্রশ্ন করত। আমরা নির্দোষ ছিলাম, তাই নার্কোর কথা শুনে প্রথম দিকে খুশি হয়েছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম সত্যিটা বেরিয়ে আসবে,” তিনি বলেন।

তিনি আরো বলেন সত্যিটা আসেনি। ” এমনকি ব্যাঙ্গালোরে ডাঃ এস মলিনির (বরখাস্ত তখন থেকে) করা বৈধ পরীক্ষায়ও সিডিগুলো বিকৃত করা হয়। আমাকে প্রশ্ন করা হয় ৫ এর পরে কত? সিডিতে প্রশ্ন পাল্টে দেয়া হয় ‘তোমার বাড়িতে ক’জন পাকিস্তানি এসেছিল?’ সাজিদ নামে অন্য এক অভিযুক্তের ক্ষেত্রে প্রশ্ন ছিল টিভি কিভাবে কাজ করে? এটা পাল্টে বানানো হল – বোম্ব বিস্ফরন করানো হয় কিভাবে? যাতে “রিমোট দিয়ে” উত্তরটা আরো অশুভ শোনাই।

শেখ উল্লেখ করেছেন সন্ত্রাস-বিরোধী স্কোয়াডের অফিসের ভিতরের “টরচার সেল”গুলোর কথা – সাউন্ড-প্রুফ, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত, অন্ধকার ঘরগুলির কথা। তিনি লিখেছেন কিভাবে এসি পুরোদমে চালিয়ে দিয়ে বন্দীদের নগ্ন রাখা হয়, স্তনবৃন্তে ও গোপনাঙ্গে  ইলেক্ট্রিক শক দেওয়া হয়, পায়ুতে রাসায়নিক বস্তু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

“তারা সাক্ষী জোগাড় করত সেইসব লোকেদের বাধ্য করে যারা অন্য কোন কেসে ইতিমধ্যে নিজেদের ডিফেন্ড করছে। তারা আমাকে বেছে নিয়েছিল কারণ এর আগে ২০০১ সালে সিমির সংগে যুক্ত থাকার  কারণে  আমি গ্রেপ্তার হয়েছিলাম,” তিনি বলেন।

“ঐ কেসেও আমি বেকসুর খালাস পাই। তারা আমার এক নিকটাত্মীয়কে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করে, কিন্তু তিনি কোর্টে বেঁকে বসেন। তারা আমাকে রাজসাক্ষী হতে বলে ও আমাকে ছেড়ে  দেওয়ার কথা বলে। আমি প্রত্যাখ্যান করি।”

অন্য সম্ভাব্য অভিযুক্তদের  সতর্ক করে দিতেও  দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তিনি । “জেলে থাকার সময়, আমি অন্য এক বন্দীকে বলি নার্কো আনালিসিস এর সময় কিছু না বলতে। আগেভাগে সতর্ক করে দেওয়াই প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তরে ও শুধু বলেছিল, ‘আমার নাম আরিফ এবং আমি নির্দোষ’। তারা ঐ পরীক্ষাটা তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারেনি। এরকম সচেতনতাই আমি আমার বইয়ের মাধ্যমে সৃষ্টি করতে চাই।”

তথ্য সুত্র ঃIndian Express

অনুবাদ করেছেন মহাঃ হাসানুজ্জামান

 

 

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *