ম্যাঞ্চেস্টার হামলা: কিছু স্মৃতি, কিছু কথা

২৩শে মে মঙ্গলবার খবর এলো ম্যাঞ্চেস্টারে এক সঙ্গীত অনুষ্ঠানে বিস্ফোরণে ২২জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রয়াত মানুষদের আত্মার শান্তি কামনা করি। তাঁদের পরিবারবর্গদের প্রতি সমবেদনা, আশা করি সময় সকল শোক সামলে ওঠার শক্তি দেবে।
খবরে প্রকাশ আততায়ীর নাম সালমান আবেদি। লিবিয়া থেকে অভিবাসী। হামলার দায় নিয়েছে দায়েশ। তার মধ্যেই কিছু স্মৃতি ভেসে আসে।
মনে পড়ে এই লিবিয়াতেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ধুয়ো তুলে আক্রমণ করে ন্যাটো, ব্রিটেন যার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। পরে ন্যাটোর নেতৃত্বের রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রএর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা বলেছিলেন এই আক্রমণ নাকি তাঁর রাষ্ট্রপতিত্বের সবচেয়ে বড় ভুল। যে ব্রিটেন আক্রান্ত তার ইরাক আক্রমণকারী প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও রাসায়নিক অস্ত্রের অভিযোগ তুলে আক্রমণকে ভুল বলে দাবী করেছিলেন। কয়েকদিন আগে খবরে বেরোয় যে দায়েশ এই আক্রমণের দায় নিয়েছে সেই দায়েশকেই অস্ত্র সাহায্য করতে যাওয়া ব্রিটিশ বিমানকে গুলি করে নামায় ইরাকি সেনা।
ইউরোপে সন্ত্রাসে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর জন্য অভিবাসীদের দায়ী করে ফায়দা নিতে চাইছে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির কারবারিরা। এবার দেখা যাক এই অভিবাসনের কারণ কি? ইউরোপের অভিবাসীদের মধ্যে এক বিরাট অংশ সেই সব দেশ থেকে এসেছেন যেখানে ইউরোপীয় দেশগুলির উপনিবেশ ছিল। আর এই অভিবাসীদের আগমনের এক বড় কারণ, বিশ্বযুদ্ধকালীন ইউরোপে জনক্ষয় এবং ঠাণ্ডা লড়াইয়ের জন্য কমিউনিস্টআতঙ্ক। কিন্তু এর একটার জন্যও অভিবাসীরা বা তাঁরা যে দেশগুলি থেকে এসেছেন তাঁরা দায়ী নন। তবুও হয়ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নাম করে প্রাকৃতিক সম্পদশালী দেশগুলি আক্রমণ চলবে। চলবে জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ ও তার প্রহসন। মাঝখান থেকে শিকার হতে থাকবেন সাধারণ মানুষ, যাঁদের এসবের সাথে কোন সম্পর্কই হয়তো নেই।
Source:
http://www.australiannationalreview.com/iraqi-army-downs-uk-planes-carrying-weapons-isil/

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *