ভারতের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির দুটি অনালোচিত বিষয়

Inkilab Desk:

সমগ্র বিশ্বের মত ভারতেও মুসলিমদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অন্য সম্প্রদায়ের চেয়ে বেশি। এবং এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কিছু কিছু মহল থেকে বহুবিবাহ, অধিক জন্মহার এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে ব্যপক অনুপ্রবেশকে দায়ী করা হয়। এই প্রচারকে সামনে রেখে গণমানসে একটা আতঙ্ক তৈরি করে ভারতে যেরকম রাজনৈতিক ফায়দা তোলা হয়, সেরকমই ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়াতেও এই ধরনের রাজনৈতিক কার্যকলাপ দেখা যাচ্ছে।

তবুও এই প্রচারের আড়ালে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য দায়ী দুটি বিষয় চাপা পড়ে যায়। ১) উন্নত নারী-পুরুষ অনুপাত: ভারতীয় মুসলিম জনসংখ্যায় প্রতি ১০০০ জন পুরুষে ৯৫১ জন নারী আছেন সেখানে ভারতীয় হিন্দুদের মধ্যে এই সংখ্যা ৯৩৯।  ভারতের মত উন্নয়নশীল দেশে যেখানে দেশের জনসমষ্টির এক বড় অংশ অনুচ্চ আয়সম্পন্ন সেখানে নারীপুরুষ অনুপাত ব্যাপকভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে। লিঙ্গ অনুপাত বিঘ্নিত হলে বিয়ের বয়স, সন্তানধারণ প্রভৃতি বিঘ্নিত হয়, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে দেশের জনসংখ্যা পরিবর্তনে।

২) যুবসমষ্টির অনুপাত: ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে যুবসম্প্রদায় অর্থাৎ যাঁরা পরবর্তী ২০ বছরের মধ্যে সন্তান জন্মদানে অংশ নিতে সক্ষম, এই ধরনের জনগোষ্ঠীর অনুপাত অন্যান্য সম্প্রদায়ের তুলনায় বেশি। ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে যুবসমাজ ৪৭%, হিন্দুদের মধ্যে ৪০%, জৈনদের মধ্যে ২৯%। এরফলে জন্মদানের হার যাই থাকুক না কেন, জনসংখ্যায় নতুন সংযোজন চলতেই থাকে। সেই কারণেই ১৯৯২-৯৩ সালের মধ্যে মুসলিম সমাজে একজন মহিলার জন্মদানের হার ৪.৪ থেকে ৩.১ এ নেমে এলেও(হিন্দু জনসংখ্যার ক্ষেত্রে ৩.৩ থেকে ২.৭) সম্প্রদায়গত অনুপাতে বৃদ্ধি হয়েছে।

রাজনীতির ঢক্কানিনাদ এই তথ্যগুলোকে ঢেকে দিলেও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে এই বিষয়গুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *