কেউ জানেনা পাকিস্তানের জয়ে কারা স্লোগান দিয়েছিল, দেশদ্রোহিতার মামলা খারিজ,তবুও জেলে ১৫ জন

চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে ভারত পাকিস্তান ফাইনাল খেলার পর ১৫ জনকে  গ্রেপ্তার করা হয় মধ্যপ্রদেশের মহাদ গ্রাম থেকে।  প্রায় ৫০০০ জনের   জন সংখ্যার এই গ্রামে কোন সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ইতিহাস নেই। হিন্দু মুসলমান এখানে একে অপরের আচার অনুষ্ঠানেও অংশ নেয়

মাত্র দুজন বাদ দিয়ে  ১৫ জনের বাকি সবাই অশিক্ষিত , আর্থ-সামাজিক ভাবে নিম্নবর্গের মানুষ। অনেকের বাড়িতে টেলিভিশন বা উন্নত মানের মোবাইলও নেই ।

যেমন হানিফা সেখের স্বামী সেখ মুকাদ্দার একজন দিনমজুর। রাত একটার সময় তাকে  পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। “তার  কোন  গ্রামে শত্রু আছে বলে জানা নেই, সে সবসময় কাজের মধ্যেই থাকত”।বললেন  হানিফা সেখ।

২৫ বছরের আনিস বাবুর মা শাহাদত বলছিলেন তার সন্তানের কথা ।“সে সেলাই মেশিনে বসে কাপড় কাটছিল ,হঠাৎপুলিশ এসে তাকে তুলে নিল ,বলল তার নামে অভিযোগ আছে । আমি তাদের পিছনে ছুটে বললাম সে কি করেছে কিন্তু কোন উত্তর দিল না” ।

পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ২৫ বছরের মাহমুদকে ,তার মা বলেন “ পুলিশ আমার গলা চেপে ধরল যখন আমি জিজ্ঞাস করলাম কেন আমার ছেলেকে রাত দুটোয় গ্রেপ্তার করা  হল”।

এদিকে মামলার সাক্ষী হিসাবে পুলিশ যাকে পেশ করেছিল সেই লক্ষ্মণ কোহলী বলেন  “আমি রবিবার রাতে আমার এক প্রতিবেশীকে সাহায্য করতে গিয়েছিলাম যাকে পুলিশ স্লোগান দেয়ার জন্য তুলে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু না আমি  কোন বাজী ফাটার আওয়াজ শুনিছি   বা না কোন  ভারত বিরোধী কোন স্লোগান শুনেছি অথবা পাকিস্তানপন্থী কোন স্লোগানও শুনিনি। আমি কোন অভিযোগও করিনি। অথচ পুলিশ আমার  নাম সাক্ষী হিসাবে দিয়েছে এবং যদি সুযোগ করে দেওয়া হয় আমি  এই কথা আদালতের কোন বিচারকের সামনেও বলতে প্রস্তুত, তবে আমি  পুলিশের ভয়ে ভীত”।

“ দেশদ্রোহিতা প্রমান করা শক্ত। আর তাদের কারো অপরাধের ইতিহাস নেই । প্রাথমিক তদন্তের পর ১২৪এ ধারার থেকে ১৫৩ এ ( সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি  নষ্ট/গোষ্ঠীগত ঘৃণা ছড়ানো) জন্য বেশি যথাযথ  হবে” ,জানান বুরহানপুরের এস পি ।

যাদের নামে কেউ অভিযোগ করেননি  ,গ্রামের কেউ যখন কোন ভারতবিরোধী  স্লোগানও শোনেননি তখন এই গ্রেপ্তার কি জোর করে ভারতীয় মুসলিমদের দেশদ্রোহী প্রমান করে  গৈরিকৃত শাসনব্যবস্থার নোংরামির বহিঃপ্রকাশ ?

Courtsey: Indian Express

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *