নিভৃতে কাঁদা বিচারের বাণীর খোঁজ তথ্যচিত্রে

ইনকিলাব ডেস্ক  : বিভিন্ন অপরাধে যাঁদের গ্রেফতার হতে হয়, তাঁরা কি সকলেই অপরাধী? যদি অপরাধী না হোন, তাহলে বিচার চলাকালীন সময়গুলো কিভাবে অতিবাহিত হয়? কতদিনে শেষ হয় এই বিচার? কি কি প্রমাণ পেশ করা হয় এঁদের বিরুদ্ধে? গ্রেফতার হওয়ার সময় যেভাবে মিডিয়ার হইচই দেখা যায়, ছাড়া পাওয়ার সময় তা হয় কি? এতগুলো প্রশ্ন উঠে এল যোগেশ মাইম একাডেমীতে আয়োজিত পিপলস ফিল্ম কালেকটিভ’-এর পক্ষ থেকে তথ্যচিত্র উৎসব এ।

Exif_JPEG_420

বক্তৃতারত পরিচালক নীতিন চন্দ্রা

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, আমাদের দেশের জেলে বন্দী ৬৫ শতাংশ মানুষই দলিত, আদিবাসী বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তার মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু যুবক সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে বন্দী। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় বছরের পর বছর জেল খাটার পর তারা বেকসুর খালাস পান। মে মাসে যেমন হয়েছিল গুলজার আহমেদ ওয়ানি-র ক্ষেত্রে, ১৬ বছর বিনাদোষে বন্দী থাকার পর। ঠিক যেমন, অক্ষরধাম মন্দিরে হামলার অভিযোগে নিম্ন আদালত একাধিক মুসলিম যুবককে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল, আর বাকিদের যাবজ্জীবন। কিন্তু, সুপ্রীম কোর্ট সবাইকে বেকসুর খালাসই শুধু দেয় নি, গুজরাত সরকারকে মিথ্যা সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে ‘সাজানো মামলা’ করার জন্য ভর্ৎসনাও করে। কিন্তু, কে ফেরৎ দেবে তাদের হারিয়ে যাওয়া বছরগুলিকে? সংঘ পরিবারের ঘৃণার রাজনীতির ফলে দেশ জুড়ে মুসলমানবিদ্বেষের আবহাওয়া আমাদের পুলিশ-ব্যবস্থা, বিচার-ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও নানান ভাবে প্রভাব বিস্তার করছে।

এই পরিঘটনাকে খতিয়ে দেখতে ‘পিপলস ফিল্ম কালেকটিভ’-এর পক্ষ থেকে  ৯ই জুলাই, যোগেশ মাইম অ্যাকাডেমিতে, বিকেল ৫.৪০ থেকে রাত ৯টা অবধি অনুষ্ঠিত হল সিনেমা দেখানো ও আলোচনার অনুষ্ঠান। দেখানো হয় তিনটে ছবি। অঞ্জলি মন্টেরো ও কে পি জয়শঙ্করের ছবি –‘ফারুক ভার্সেস দ্য স্টেট’। যার বিষয়, ৯২-৯৩ সালে মুম্বাই দাঙ্গার পরে কীভাবে সংখ্যালঘু সমাজ বিচারের জন্য লড়াই করেছে। কে পি শশীর ছবি ‘ফ্যাব্রিকেটেড’। যেখানে কোয়েম্বাটুর ও ব্যাঙ্গালোর বিস্ফোরণে অভিযুক্ত আবদুল নাসের মাদানির দীর্ঘ বিচার-প্রক্রিয়াকে দেখানোর মধ্যে দিয়ে বোঝার চেষ্টা চালানো হয়েছে কীভাবে দলিত-আদিবাসী-মুসলমানদের কাঠামোগত অবিচারের সম্মুখীন হতে হয়।

এই দু’টি তথ্যচিত্র ছাড়া নীতিন চন্দ্রার শর্ট ফিল্ম ‘দ্য সাসপেক্ট’ দেখানো হয়, কলকাতায় প্রথমবার। ছবির পরে পরিচালক নীতিন আলোচনার জন্য উপস্থিত থাকেন। দর্শকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান তাঁর জেলা দ্বারভাঙ্গার একজনের অভিযুক্ত হওয়া এবং তাঁর মুম্বাই জীবনের কিছু ঘটনা তথ্যচিত্র তৈরিতে উতসাহিত করেছে। তিনি বলেন কিছু ঘটনার জন্য বা কিছু খবরের ভিত্তিতে নির্বিচারে সামাজিক দোষীকরণের মানে হয় না। ছবি ছাড়াও এই বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখবেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিক মহম্মদ রিয়াজ। ছিল বিভিন্ন বিষয়ক বই বিক্রির ব্যবস্থা।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *